এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায়
এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে আজকে এ আর্টিকেলে আলোচনা করেছি।
আপনারা যারা চিরতরে মেছতা দূর করার ঘরোয়া উপায় সম্পর্কে জানতে চান
তাহলে আজকের এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য। মেছতা মুখের একটি অবাঞ্চিত কালো দাগ যা
ত্বকের সৌন্দর্যকে প্রকাশ করতে বাধা সৃষ্টি করে।
মেছতা একটি সাধারণ কিন্তু বিরক্তিকর ত্বক জনিত সমস্যা। আজকাল
অনেকেই মেছতা দূর করতে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ সমাধানের দিকে ঝুকছে। কিভাবে
নিয়মিত ও সঠিকভাবে এলোভেরা ব্যবহার করে ত্বকের মেছতা হালকা করা যায় এবং
ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনা যায় তা আজকের এই আর্টিকেলে
বিস্তারিত তুলে ধরেছি।
সূচিপত্রঃ এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায়
- এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায়
- এলোভেরা জেল ব্যবহারে সঠিক নিয়ম
- এলোভেরা ও লেবুর রসের মিশ্রণ
- এলোভেরা ও মধুর মিশ্রণ
- এলোভেরা ও হলুদের মিশ্রণ
- রাতে এলোভেরা ব্যবহারের উপকারিতা
- এলোভেরা ব্যবহারের সময় সতর্কতা
- মেছতা দূর করতে জীবন যাপনের ভূমিকা
- শেষ কথাঃ এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায়
এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায়
এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায় সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি আবার অনেকেই
তেমন কিছু জানিনা। মেছতা মুখের একটি সাধারণ সমস্যা যা মুখে কালচে দাগ তৈরি করে
এবং দেখতে অনেকটাই খারাপ লাগে। বেশি রোদে থাকা, হরমোনের পরিবর্তন,
গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপের কারণে মেছতা হতে পারে। অনেকে আছেন এই সমস্যা দূর
করার জন্য বাজারে ক্রিম ব্যবহার করেন। বাজারে ক্রিমে রাসায়নিক পদার্থ
থাকার কারণে এটি ত্বকের উপকারের চাইতে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। তাই
ঘরোয়া উপায়ে চিরতরে মেছতা দূর করার উপায় হিসেবে প্রাকৃতিক উপাদান এলোভেরা
ব্যবহার করতে পারি।
অ্যালোভেরা মেছতা দূর করার জন্য একটি নিরাপদ ও প্রাকৃতিক উপায়। এতে থাকা ভিটামিন
ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের কালচে দাগ দূর করতে সাহায্য করে । এলোভেরা ত্বক
ঠান্ডা রাখে, জ্বালা ভাব কমায় এবং ধীরে ধীরে ত্বক উজ্জ্বল হতে শুরু করে। মেছতা
কমাতে তাজা এলোভেরা জেল মুখে লাগাতে পারেন। এটি ব্যবহারের জন্য প্রথমে আপনার মুখ
ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে শুকিয়ে নিবেন। এরপর মেছতা
যুক্ত স্থানে আঙ্গুল দিয়ে ভালোভাবে লাগিয়ে নিবেন। লাগানোর পর ২০ মিনিট
রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। আপনি চাইলে রাতে ঘুমানোর আগে লাগিয়ে সারা রাত
রেখে সকালে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন।
মেছতা দূর করার জন্য এলোভেরার সাথে লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করলেও মুখের কালচে
দাগ অনেকটা কমে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এক চামচ এলোভেরার সাথে কিছু পরিমাণ লেবুর
রস মিশিয়ে ত্বকে লাগাতে পারেন। এছাড়া মুখের মেছতা দূর করার জন্য অ্যালোভেরার
সাথে মধু মিশিয়ে অথবা কাঁচা হলুদ মিশিয়ে মুখে লাগালে ভালো উপকার
পাওয়া যায়। আপনি এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মেছতা
হালকা হতে শুরু করবে। পাশাপাশি রোদে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ক্রিম মুখে
ব্যবহার করবেন। ত্বক ভালো রাখতে অবশ্যই বেশি বেশি পানিও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ
করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।
আরও পড়ুনঃ ৫০০০ টাকায় কি ব্যবসা করা যায়
এলোভেরা জেল ব্যবহারে সঠিক নিয়ম
কাঁচা এলোভেরা জেল ব্যবহারের জন্য অবশ্যই আগে এটি সঠিকভাবে সংগ্রহের নিয়ম
জানতে হবে। প্রথমে একটা তাজা ও মোটা এলোভেরা পাতা ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে যাতে
পাতার উপরে কোন ময়লা না থাকে। এরপর পাতা দুই পাশের কাটা কেটে ফেলে মাঝখান থেকে
লম্বালম্বি ভাবে কেটে ভেতরে স্বচ্ছ জেল বের করে নিতে হবে। এই জেল ত্বকের
জন্য অনেক বেশি উপকারী। এলোভেরা জেল ব্যবহারের আগে মুখ ভালোভাবে পানিতে ধুয়ে
শুকিয়ে নিতে হবে। এরপর আঙ্গুলের ডগা দিয়ে মেজ তার জায়গায় বা পুরো মুখে পাতলা
করে যে লাগিয়ে হালকা হাতে দুই তিন মিনিট মেসেজ করতে হবে।
আপনার মুখে জেল লাগানোর পর অন্ততপক্ষে 20 মিনিট অপেক্ষা করবেন। আপনি চাইলে রাতে
ঘুমানোর আগেও এলোভেরা জেল ব্যবহার করে সকালে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। নিয়মিত
সঠিকভাবে কাঁচা এলোভেরা জেল ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে আপনার মুখের মেছতার
দাগ দূর হতে শুরু করবে। সাধারণত প্রতিদিন একবার ব্যবহার করলেই ভালো ফল
পাওয়া যায়। আপনি যখন প্রথমবার এলোভেরা জেল ব্যবহার করবেন তখন অবশ্যই তাকে
না লাগিয়ে হাতে পায়ে অথবা কানের পিছনে লাগিয়ে তা টেস্ট করে নিতে পারেন।
এলোভেরা ও লেবুর রসের মিশ্রণ
মেছতা দূর করার জন্য এলোভেরা ও লেবুর রসের মিশ্রণ ব্যবহার করতে পারেন। এই
মিশ্রণ মেছতা দূর করার একটি জনপ্রিয় ও কার্যকর প্রাকৃতিক উপায়। লেবুর রস এ
থাকা সিসট্রিক এসিড ত্বকের কালো দাগ হালকা করতে সাহায্য করে।
অন্যদিকে এলোভেরা ত্বককে ঠান্ডা রাখে, জ্বালাপোড়া কমায় এবং লেবুর রসের
তীব্রতা কমিয়ে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। এই দুই উপাদান একসঙ্গে ব্যবহার করলে মেছতার
দাগ ধীরে ধীরে দূর হয়ে যায় এবং ত্বক উজ্জ্বল হতে শুরু করে।
এই মিশ্রণ তৈরি করার জন্য প্রথমে এক চামচ তাজা এলোভেরা জেলের সঙ্গে চার
থেকে পাঁচ ফোটা তাজা লেবুর রস ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে যেন জেলের সঙ্গে লেবুর
রস সমানভাবে মিশে যায়।মিশ্রণটি ব্যবহারের আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে
ধুয়ে নিতে হবে। এরপর আঙ্গুল দিয়ে বা কটন প্যাড দিয়ে মেছতার জায়গায় আলতোভাবে
মিশ্রণটি লাগাতে হবে।এভাবে মিশ্রণটি ১০ থেকে ১৫ মিনিট মুখে লাগিয়ে রেখে হালকা
কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এরকম ভাবে নিয়মিত যদি আপনি এলোভেরা ও
লেবুর রসের মিশ্রণ ব্যবহার করেন তাহলে আপনার ত্বক আরো সুন্দর ও মসৃণ হবে।
এলোভেরা ও মধুর মিশ্রণ
অ্যালোভেরা ও মধুর মিশ্রণ ত্বকের মেছতা দূর করতে খুবই উপকারী। মধু ত্বকের
শুষ্কতা দূর করে। সমপরিমাণ অ্যালোভেরা জেল ও খাঁটি মধু মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০
মিনিট রেখে ধুয়ে ফেললে ত্বক উজ্জ্বল ও সতেজ হয়। নিয়মিত এটি ব্যবহার করলে
মেছতা হালকা হওয়ার পাশাপাশি ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে। এই প্যাক
তৈরি করার জন্য প্রথমে এক চা চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে এক চামচ খাঁটি মধু
মিশিয়ে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে মিশ্রণটি যেন বেশি ঘন বা বেশি পাতলা না হয়।
আর চেষ্টা করবেন সবসময় খাঁটি ও ভেজাল মুক্ত মধু ব্যবহার করতে।
এই মিশ্রণটি ব্যবহারের আগে মুখ ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিতে হবে।
এরপর আঙ্গুল দিয়ে মেছতার জায়গায় ভালো করে এই মিশ্রণটি লাগাতে হবে। 20 মিনিট
রেখে দিলে উপাদানগুলো ত্বকের ভেতরে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এরপর স্বাভাবিক পানি
দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলে নরম তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে নিতে হবে। এলোভেরা ও মধুর
এই প্যাক সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করলে আপনার ত্বকের কালচে দাগ ধীরে ধীরে
হালকা হবে এবং আপনার তো আগের চেয়ে আরো উজ্জ্বল ও সুন্দর হবে।
আরও পড়ুনঃ ঘোলা ছবি ক্লিয়ার করার ওয়েবসাইট
এলোভেরা ও হলুদের মিশ্রণ
অ্যালোভেরা ও হোলিদের মিশ্রণ মেছতা ও মুখের কালচে তার কমানোর একটি প্রাকৃতিক
উপায়। হলুদের রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক উপাদান যা ত্বকের ভেতরে সমস্যা কমাতে
সাহায্য করে। অন্যদিকে এলোভেরা ত্বককে ঠান্ডা রাখে, জ্বালাপোড়া ও লালচে ভাব
কমায় এবং হলুদের তীব্রতা কমিয়ে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। এ দুটি উপাদান
একসঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বক পরিষ্কার ও উজ্জ্বল হতে শুরু করে। এই পেট তৈরি করার
জন্য প্রথমে এক চা চামচ তাজা অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ ভালোভাবে
মিশিয়ে নিতে হবে। আপনি চাইলে কাঁচা হলুদের পরিবর্তে রান্নার কাজে ব্যবহৃত
বিশুদ্ধ হলুদ ব্যবহার করতে পারেন।
এই মিশ্রণটি ব্যবহারের আগে ত্বক ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে
হবে। এরপর আঙ্গুল দিয়ে মেছতার জায়গায় পাতলা করে লাগিয়ে দিতে হবে। ১৫ থেকে ২০
মিনিট রেখে দিলে উপাদানগুলো ত্বকের ভেতরে ভালোভাবে কাজ করতে পারে। এরপর স্বাভাবিক
পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে। এলোভেরা ও হলুদের উপাদান দুই থেকে তিনবার
ব্যবহার করলেই যথেষ্ট। নিয়মিত ব্যবহার করলে মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তবে সংবেদনশীল
ত্বকের ক্ষেত্রে প্রথমবার ব্যবহারের আগে অবশ্যই এই প্যাকটি অন্য কোন জায়গায়
ব্যবহার করে পরীক্ষা করে নিতে হবে।
রাতে এলোভেরা ব্যবহারের উপকারিতা
রাতে এলোভেরা ব্যবহার করলে ত্বক সবচেয়ে ভালো উপকার পায়। দিনের বেলায় রোদ
ধুলাবালি,ও দূষণের কারণে ত্বক ক্ষতির মুখে পড়ে। দিনের বেলা যখন শরীর বিশ্রাম
থাকে তখন অ্যালোভেরা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে ক্ষতিগ্রস্ত কোষ ঠিক করতে সাহায্য
করে। রাতে এলোভেরা জেল ব্যবহারের আরেকটি বড় উপকারিতা হলো এতে ত্বকের কালচে দাগ ও
মেছতার উপর ধীরে ধীরে কাজ করে। নিয়মিত রাত্রে এলোভেরা ব্যবহার করলে মেছতা হালকা
হতে শুরু করে এবং ত্বকের রঙ ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়।
রাতে এলোভেরা ব্যবহারে সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এতে বাড়তি কোন ঝামেলা নেই। মুখ
ধুয়ে পরিষ্কার করে পাতলা করে অ্যালোভেরা জেল লাগিয়ে সারারাত রেখে দিলেই যথেষ্ট।
সকালে উঠে স্বাভাবিক পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিলেই আপনার ত্বক অনেক ফ্রেশ হবে। আপনি
যদি নিয়মিত এই অভ্যাস করেন তাহলে আপনার মুখের মেছতার পাশাপাশি আপনার ত্বক
উজ্জ্বল ও ফর্সা হবে। তৈলাক্ত ত্বকের ক্ষেত্র এলোভেরা খুবই উপকারী কারণ এটি ত্বক
আর্দ্র রাখলেও অতিরিক্ত তেল তৈরি করে না।
এলোভেরা ব্যবহারের সময় সতর্কতা
এলোভেরা প্রাকৃতিক উপাদান হলেও সবার ত্বকের প্রতিক্রিয়া একরকম না হতে পারে। তাই
আপনি যদি প্রথমবার এলোভেরা ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্যই অন্য কোন জায়গায় হাত পা
অথবা কানের পেছনে অল্প পরিমাণে জেল লাগিয়ে ১২ থেকে ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করে দেখতে
পারেন। আপনি যে স্থানে এলোভেরা লাগিয়েছেন সেই স্থানে যদি চুলকানি বা লালচে ভাব
দেখা দেয় তাহলে অ্যালোভেরা জেল মুখে ব্যবহার না করাই ভালো। কাঁচা এলোভেরা জেল
ব্যবহার করার সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যালোভেরার সঙ্গে লেবুর রস বা হলুদের মত উপাদান মেশালেও সতর্ক থাকতে হবে। এসব
উপাদান ত্বকে বেশি সময় রেখে দিলে জ্বালা বা শুষ্কতা দেখা দিতে পারে। তাই কখনোই
নির্ধারিত সময়ের বেশি রেখে দেওয়া উচিত নয় এবং অতিরিক্ত পরিমাণে ব্যবহার করা
থেকে বিরত থাকতে হবে। এলোভেরা ব্যবহার করার পর রোদে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন
ক্রিম ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরী। এছাড়া এলোভেরা দিনে একবারে বেশি ব্যবহার না
করাই ভালো। নিয়মিত কিন্তু পরিণত ব্যবহারই ত্বকের জন্য সবচেয়ে উপকারী এবং এতে
কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি থাকে না।
আরও পড়ুনঃ চুলকানিতে নিম পাতা ব্যাবহারের সঠিক উপায়
মেছতা দূর করতে জীবন যাপনের ভূমিকা
মেছতা দূর করতে শুধু বাহ্যিক যত্ন নিলে যথেষ্ট নয় এর সঙ্গে সঠিক জীবনযাপন ও
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক সময় আমরা নিয়মিত ক্রিম অথবা প্রাকৃতিক
প্যাক ব্যবহার করেও মেছতা কমেনা। আমাদের শরীর যদি ভেতর থেকে সুস্থ না থাকে তাহলে
এই সমস্যাগুলো সহজে সারে না। তাই মেছতা কমাতে হলে দৈনন্দিন জীবন যাপনের অভ্যাসের
কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের অবশ্যই পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পর্যাপ্ত
পানি পান মেছতা দূর করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে একটি।
আমরা যদি প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করি তাহলে শরীরের ভিতর টক্সিন বের
হয়ে ত্বক পরিষ্কার থাকবে।
আপনি যখন রোদে বের হবেন তখন অবশ্যই সতর্ক থাকবেন যেন সূর্যের অতি বেগুনি রশি
আপনার ত্বকের উপর না পড়ে। সূর্যের রশ্মি আপনার ত্বকের মেছতার প্রধান কারণ। তাই
বাইরে বের হলে অবশ্যই সানস্ক্রিন ক্রিম ব্যবহার করে ছাতা নিয়ে মুখ ঢেকে বের
হবেন। বিশেষ করে দুপুরের রোদ সবসময় এরিয়ে চলার চেষ্টা করবেন।
আপনার প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস আপনার মুখের মেছতা দূর করার ক্ষেত্রে ভূমিকা
রাখে। নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খেলে তবে ত্বক ভেতর থেকে
উজ্জ্বল হয়।
শেষ কথাঃ এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায়
এলোভেরা দিয়ে মেছতা দূর করার উপায় প্রাকৃতিক উপাদান এবং নিয়মিত ব্যবহার।
অ্যালোভেরা জেল ত্বককে ভেতর থেকে আদ্র রাখে, রোদে পোড়া ও প্রদাহ কমায়
এবং ধীরে ধীরে কালচে দাগ দূর করতে সহায়তা করে। তবে মনে রাখতে হবে মেছতা দূর
হওয়ার রাতারাতি সম্ভব নয়। আপনি যদি নিয়মিত ধৈর্য ধরে সঠিক উপায়ে এলোভেরা
জেল ব্যবহার করেন তাহলে আপনার মুখের মেছতা ধীরে ধীরে দূর হতে
পারে।
আমার মতে, চিরতরে মেছতা দূর করার ঘরোয়া উপায় হিসেবে বাজারের রাসায়নিক ক্রিম ব্যবহারের চেয়ে প্রাকৃতিক উপাদান
এলোভেরা ব্যবহার করা উত্তম। প্রাকৃতিক উপাদানে তেমন কোনো ক্ষতিকর
প্রভাব থাকে না। সঠিকভাবে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারের পর রোদে বের হলে অবশ্যই আপনাকে সানস্ক্রিন
ক্রিম ব্যবহারে পাশাপাশি অবশ্যই আপনাকে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে হবে।
আমারে লেখা পড়ে যদি আপনার উপকার বলে মনে হয় তাহলে আপনার মূল্যবান মতামত আমার
লেখার আগ্রহকে আরো বাড়িয়ে দেবে।



রিফা আরএফএন এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url