রোজা রেখে চোখের ড্রপ দেওয়া যাবে কিনা

রোজা রেখে চোখের ড্রপ দেওয়া যাবে কিনা এই বিষয়টা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন আসে। রমজান মাসের রোজা রাখা মুসলমানদের জন্য একটি ফরজ ইবাদত। এই সময় অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিলে অনেকেই বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যায়।
রোজা-রেখে-চোখে-ড্রপ-দেওয়া-যাবে-কিনা
বিশেষ করে চোখের সমস্যা থাকলে চোখের ড্রপ দেওয়া নিয়ে অনেকে দুশ্চিন্তায় থাকেন। রোজা রেখে চোখে ড্রপ দিলে রোজা ভেঙে যাবে কিনা এ বিষয়টি আজকে আমার এই আর্টিকেলে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছি। কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায় এসব বিষয়ে সঠিকভাবে জানা থাকলে রোজা পালন করা অনেকটাই সহজ হয়।

সূচিপত্রঃ রোজা রেখে চোখে ড্রপ দেওয়া যাবে কিনা

রোজা রেখে চোখে ড্রপ দেওয়া যাবে কিনা

রোজা রেখে চোখে ড্রপ দেওয়া যাবে কিনা এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা না থাকলে রোজার সময় আমাদের বিভ্রান্তির মধ্যে পড়তে হয়। রমজান মাসের রোজা রাখা অবস্থায় যেকোনো ধরনের ওষুধ ব্যবহার নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে। বিশেষ করে চোখের সমস্যা যেমন চোখ জ্বালা করা এলার্জি বা চোখে শুষ্কতা হলে চোখে ড্রপ দেওয়া জরুরী হয়ে পড়ে। এরকম সমস্যা হলে স্বাভাবিকভাবে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে আসলে কি এই অবস্থায় চোখে ড্রপ দিলে রোজা ভেঙে যাবে কিনা।


ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিতে রোজা রেখে চোখে ড্রপ দেওয়া জায়েজ এবং এতে রোজা ভাঙ্গে না। কারণ চোখ খাবার গ্রহণের  স্বাভাবিক কোনো পথ নয় যার মাধ্যমে খাবার সরাসরি পাকস্থলীতে গিয়ে পৌঁছায়।অনেকের মনে আবার এরকম প্রশ্ন হতে পারে যে চোখে ড্রপ দেওয়ার পর যদি গলায় ওষুধের মত তিতা অনুভূত হয় তাহলে কি রোজা ভেঙ্গে যাবে, এ ক্ষেত্রে অনেকের মতামত হলো শুধু স্বাদ অনুভূত হওয়ার কারণে রোজা ভাঙ্গে না। কারণ এটি অনিচ্ছাকৃত বা খাদ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে না।সবশেষে বলা যায় চোখের সমস্যা হলে চিকিৎসা নিতে হবে এতে রোজা ভাঙ্গে না।

চোখের ড্রপ দিলে গলায় স্বাদ অনুভূত হলে কি রোজা হবে

রোজা অবস্থায় চোখের ড্রপ দেওয়ার পর অনেক সময় কিছু মানুষের গলায় হালকা তিতা অনুভূত হয়। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে এরকম স্বাদ অনুভূত হলে কি রোজা ভেঙে যাবে। রোজা ভাঙ্গার কিছু নির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। আসলে কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায় এসব কারণগুলো আমাদের অবশ্যই জেনে নিতে হবে। ইসলামিক আলেমদের মধ্যে চোখের ড্রপ দিলে গলায় স্বাদ অনুভূত হলে রোজা ভাঙ্গে না। কারণ এটি খাওয়া বা পান করার মতো তেমন কিছু নয়। রোজা অবস্থায় মেসওয়াক ব্যবহার করার সময়ও গলায় স্বাদ অনুভূত হলেও যেমন রোজা ভাঙ্গে না ঠিক তেমনি। চোখের ড্রপ দিলেও রোজা ভাঙ্গে না
রোজা-রেখে-চোখে-ড্রপ-দেওয়া-যাবে-কিনা
তবে রোজা অবস্থায় ড্রপ দিলে কিছু সতর্কতা অবশ্যই মেনে চলতে হবে। ড্রপ দেওয়ার পর যদি গলায় স্বাদ অনুভূত হলে ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে না ফেলে থুথু ফেলে দেওয়াই ভালো। রোজা থাকা অবস্থায় চোখের সমস্যা হলে অবশ্যই চোখের চিকিৎসা নিতে হবে। রোজা ভাঙ্গার ভয়ে যদি আমরা চোখে চিকিৎসা না করে তাহলে চোখে সমস্যা আরো বেড়ে যেতে পারে। ইসলাম কখনোই মানুষের ক্ষতি বা কষ্ট চায় না। তাই চিকিৎসার প্রয়োজনে চোখের ড্রপ দিলে গলায় স্বাদ অনুভূত হলেও রোজা ভেঙে যাবে না।

রোজা রেখে নাকের ড্রপ দেওয়া যাবে কিনা

রমজান মাসে সর্দি নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এলার্জি বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় অনেকেই নাকে ড্রপ দিয়ে থাকেন। আর এই সময় স্বাভাবিকভাবে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে রোজা রেখে নাকের ড্রপ দিলে কি রোজা ভেঙে যাবে। এ বিষয়ে চোখের ড্রপ দেওয়ার তুলনায় ইসলামী শরীয়তে  স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। নাকে ড্রপ দিলে সহজেই নাক দিয়ে গলা হয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছাতে পারে। এ কারণে অধিকাংশ ইসলামী আলেমদের মত হল রোজা অবস্থায় ব্যবহার করলে রোজা ভেঙে যেতে পারে।

তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে ভিন্ন দিক নির্দেশনা রয়েছে। যদি কোন ব্যক্তি গুরুতর অসুস্থ হয়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় তবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অবশ্যই ড্রপ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে ইচ্ছাকৃতভাবে নাকে কোন কিছু প্রবেশ করালে বা ড্রপ ব্যবহার করলে রোজা ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সব মিলিয়ে বলা যায় রোজা রেখে নাকে ড্রপ না দেওয়াই ভালো। কারণ এতে রোজা ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সম্ভব হলে ইফতারের পরে বা সেহেরির সময় নাকের ড্রপ ব্যবহার করা সবচেয়ে নিরাপদ।

রোজা রেখে কি কি করা যাবে না

রোজা ইসলাম ধর্মের একটি ফরজ এবাদত। রোজা শুধু না খেয়ে থাকার নাম নয় বরং নিজের শরীর মন ও আচরণ সংযুক্ত রাখার পরীক্ষা। সঠিক ভাবে রোজা পালন করতে হলে অবশ্যই কিছু কাজ থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে কোন কিছু খাওয়া বা পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ধুমপান ও নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে। রোজা অবস্থায় সিগারেট বিড়ি পান খেলেও রোজা ভেঙে যায়। 
রোজা-রেখে-চোখে-ড্রপ-দেওয়া-যাবে-কিনা
রোজা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে রোজা ভেঙ্গে যায়। তবে অসুস্থতার কারণে বা অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলে রোজা ভাঙে না যতক্ষণ না বমি গিলে ফেলা হয়। রোজা অবস্থায় স্বামী স্ত্রী যৌন মিলন থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া রোজা অবস্থায় অশ্লীল কোন কিছু দেখা বা চিন্তা থেকেও বিরত থাকতে হবে। রোজা শুধু শারীরিক সংযম নয় বরং কথাবার্তার সংযমও  জরুরী। রোজা রেখে মিথ্যা কথা বললে বা গীবত করলে রোজার সওয়াব কমে যায়। তাই রোজা রেখে এসব কাজ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

শেষ কথাঃ রোজা রেখে চোখে ড্রপ দেওয়া যাবে কিনা

রোজা রেখে চোখে ড্রপ দেওয়া যাবে কিনা এ বিষয়ে অবশ্যই আমাদের সঠিক ধারণা থাকতে হবে। রোজা ভাঙার নির্দিষ্ট কিছু কারণ রয়েছে। আর এসব কারণগুলো জেনে যদি আমরা রোজা রাখি তাহলে আমাদের রোজা পালন অনেক সহজ হয়। রোজা অবস্থায় চোখে সমস্যা হলে ইসলামে এর চিকিৎসা নেওয়া জায়েজ। চোখের ড্রপ দিলে যেহেতু এটি সরাসরি পাকস্থলীতে যায় না এ কারণে রোজা ভাঙ্গে না। তবে ড্রপ দেওয়ার পর গলায় তিতা ভাব অনুভূত হলে অবশ্যই থুথু ফেলে নেয়া ভালো।


আমার মতে রোজা রেখে চোখ বা নাকে ড্রপ দিলে অবশ্যই সতর্কতার সাথে ব্যবহার করা উচিত। ইসলামে রোজা যেহেতু ফরজ ইবাদত সেহেতু রোজা ভঙ্গের কারণগুলো অবশ্যই আমাদের ভালোভাবে জেনে নিতে হবে। আপনাদের যাদের মনে প্রশ্ন জাগে যে রোজা রেখে চোখে ড্রপ দেওয়া যাবে কিনা এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমার এই আর্টিকেলটি ভালোভাবে পড়ে নিবেন। আমার এই পোস্ট পড়ে যদি আপনার উপকার বলে মনে হয় তাহলে আপনার মূল্যবান মতামত আমার লেখার আগ্রহকে আরো বাড়িয়ে দিবে। আল্লাহ আমাদের সঠিক নিয়ম জেনে রোজা রাখার তৌফিক দান করুন। আমীন।





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রিফা আরএফএন এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url
Mst.Shahina Akter
Mst. Shahina Akter
আমি একজন ডিজিটাল মার্কেটিং এক্সপার্ট এবং রিফা আরএফএন এর এডমিন। আমি রিফা আরএফএন ওয়েবসাইটে অনলাইন ইনকাম, তথ্য, ব্লগিং, SEO ও টেকনোলজি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করি।।